‘কুমারী হয়ে এখানে এসেছিলাম কিন্তু মাত্র ৩ সপ্তাহেই সবশেষ’ আমাকে ওরা…

0

র কথা বলতে গিয়ে কাঁপতে কাঁপতে বিথী বলেন, ‘পল্লীতে আসার প্রথমে খুব কষ্ট হতো। কিন্তু আস্তে আস্তে শারীরিক ও মানসিক সেই কষ্টকে মেনে নিতে হয়েছে’।

এ সময় একটি ঝুড়িতে নিজের সাজার জিনিসপত্র বের করে দেখাচ্ছিলেন বিথী। লিপস্টিকসহ নানা প্রসাধনী দেখাতে দেখাতে বিথী বলেন, ‘বেশি সাজলে খদ্দের বেশি আসে। যে মেয়েটা দেখতে সুন্দর তার কাছে বেশি খদ্দের আসেন। আমি বেশি সাজতে পছন্দ করি না। সাধারণত একটু লিপস্টিক, একটু কাজল ও একটি টিপ পরি’।

খদ্দের ছাড়া বিথীর কাছে আর কেউই আসেন না। তার কাছে বিশ্ব মানে শুধু তার ঘর। সৌন্দর্যের জন্য নিজের ঘরটিকে চিকিমিকি ঝালরে সাজিয়ে রেখেছেন তিনি। বললেন, ‘দেখতে সুন্দর লাগে তাই সাজিয়ে রাখি। এই জায়গাটুকুতেই তো থাকতে হয়’।

রেলস্টেশন, ফেরি ও রাজধানীগামী মহাসড়কের কাছেই অবস্থিত দৌলতদিয়ার মূল অর্থনীতি চলে এই নিষিদ্ধ ব্যবসাকে ঘিরেই। প্রতিদিন এই জায়গা দিয়ে যায় এক হাজারেরও বেশি ট্রাক, যাতায়াত করেন হাজার হাজার মানুষ। পল্লীটির বেশিরভাগ খদ্দেরই বাস কিংবা ট্রাক চালক।

এক ট্রাক চালক বলেন, ‘এখানে ছয়দিন ধরে আটকে আছি। এখানে আসলে প্রায়ই পল্লীতে যাওয়া হয়। একজনের কাছে সবসময় যাওয়ার চেষ্টা থাকে তবে অন্যদের কাছেও যাই।’

পাশেই হাঁটাহাঁটি করছিলেন কিছু যুবক। তারা বললেন, ‘পল্লীতে সকল বয়সের নারীই পাওয়া যায়। ১০ বছর থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের কাছে খরচের মাত্রাটাও ভিন্ন। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০-১০০০ টাকা খরচ হয় তাদের কাছে যেতে।’

ট্রাক চালক কিংবা এই যুবকদের মতো প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার খদ্দের আসেন এখানে। বছরের প্রতিদিনই চলে এখানকার ব্যবসা। তবে রাতের বেলায় ভিড়ের পরিমাণটা অনেক বেশি থাকে। দেশে মাদক নিষিদ্ধ থাকলেও এখানে গোপনে বিক্রি হয় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য।

খদ্দেরদের ভালোবাসার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক নারী বলেন, অনেক খদ্দেরই একাধিকবার আসতে চান। তবে এখানে কোনো প্রেমিক বানাতে চাই না। কারণ এখানে প্রেমিক বানালে তারা মারধর করে সকল টাকা-পয়সা নিয়ে যায়।’

Share.