পার্কের ঝোপঝাড়ই শিক্ষার্থীদের অশ্লীলতার নিরাপদ আশ্রয় – পড়ুন বিস্তারিতঃ–

0

ঢাকা বাংলাদেশের জনবহুল ব্যস্ততম রাজধানী। মানুষ একটু ছুটি বা অবসর পেলেই বিভিন্ন পার্ক বা উদ্যানে ঘুরতে যান প্রকৃতির সান্নিধ্য লাভের আশায়! এই কর্মব্যস্ত যান্ত্রিক শহরের বিশাল বিশাল দালান-কোঠার মধ্য থেকে কিছুটা সময় খোলা আকাশের নিচে কাটানোর জন্য ছুটে যান সবুজের সমারহ রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী ও চন্দ্রিমা উদ্যানে কিংবা বোটানিকেল গার্ডেনে। তাদের জন্য সেই পার্ক বা উদ্যানগুলো এখন অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত পার্কের মধ্যে নানান অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়ে থাকে। আড়াল ও ছাতার নিচেই শিক্ষার্থীরা অশ্লীলতার নিরাপদ স্থান হিসেবে বেঁচে নেয়।

ঢাকার রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চন্দ্রিমা উদ্যান, ধানমন্ডি লেক ও বোটানিকেল গার্ডেন বিনোদনের জন্য তৈরী হলেও এখানে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ। অশ্লীল কার্যকলাপে মগ্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। তাদের কাছে যেন কিছু মনেই হচ্ছে না। এই সমস্ত অশ্লীল কাজ আমাদের সমাজের অন্তরায়! তারা এ কাজ করার জন্য একটু আড়াল ও ঝোপ বেছে নেয়। কেউ কেউ আবার প্রকাশেই একে-অপরকে চুমু খাওয়ায় মহা ব্যস্ত, একে-অপরকে ঝাপটি মেরে ধরে বসে থাকে। তাদের কাছে যেন কিছু মনেই হচ্ছে না। পাশে কেউ বসা আছে বা পাশ দিয়ে কেউ যাচ্ছে। তারা এখানে আসে শুধু অনৈতিক কাজ করার জন্য।

অন্যদিকে যারা ছুটির দিনে বা কর্মব্যস্ত যান্ত্রিকতাকে ভুলতে এক চিলটে সবুজের সান্নিধ্য লাভে প্রাণ ভরে সতেজ অক্সিজেন গ্রহণ করতে এই স্থান গুলোতে আসে কিন্তু বর্তমানে এই সমস্ত ছেলে মেয়েদের অশ্লীল কর্মকান্ড দেখে তারা আর আসছে না।

চন্দ্রিমা বা জিয়া উদ্যানটি দর্শনার্থীদের কাছে বিনোদনের আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় দিন দিন এর দর্শনার্থী সংখ্যাও বাড়তে থাকে। সেই উদ্যানের সর্বত্রে অশ্লীতার ছড়াছড়ি। বিনোদন বলতে কিছুই নেই। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই পার্কগুলোতে অসংখ্য প্রেমিক-যুগলের ভীড় লেগে থাকে। ঘন্টার পর ঘন্টা যে কর্মকান্ড করে সেটা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। এদের মধ্যে অধিকাংশই স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর-কিশোরী বা যুবক-যুবতী। পার্ক বা উদ্যানগুলোতে সতর্কবাণী থাকলেও কার্যত এই নির্দেশনা লোক দেখানো। লেখা দেখেও কেউ তা মানছেন না।

উদ্যানগুলোতে ঘুরতে যাওয়া এক কলেজ শিক্ষক বলেন, ‘সুস্থ কোন মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে উদ্যানগুলোতে ঘোরাফেরা করার কোন অবকাশ নেই। প্রকাশ্যে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়া, ঘন্টার পর ঘন্টা বুকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকা, ছাতা মেলে সেটার আড়ালে আরো কত সূড়সূড়ি। চোঁখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।’

Share.