এশাকে যেভাবে শাস্তি দেয় শিক্ষার্থীরা (ভিডিও)

0

এশাকে যেভাবে শাস্তি – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি সুফিয়া কামাল হলে সাধারণ ছাত্রীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ইফফাত জাহান এশাকে। তবে এর আগে ছাত্রলীগের ওই নেত্রীকে ধরে শাস্তি দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

তার গলায় পরিয়ে দেওয়া হয় জুতোর মালা। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এশাকে শাস্তি দেওয়ার ওই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে। ভিডিওগুলো এ সংবাদের নিচে রয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ছাত্রী জানান, গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে এশা হলের তিন ছাত্রীকে একটি কক্ষে ডেকে নির্যাতন করেন। নির্যাতনের শিকার ছাত্রীদের চিৎকার শুনে সেখানে যান উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মোর্শেদা আক্তার। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মোর্শেদা কক্ষের জানালার কাচে লাথি মারলে তার পা কেটে যায়।

খবর পেয়ে অন্য ছাত্রীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এশাকে মারধর করে আটকে রাখেন। ছাত্রী নির্যাতন করায় তার বহিষ্কারের দাবিতে সাধারণ ছাত্রীরা তাদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। দিবাগত রাত তিনটা ৫০ মিনিটে সুফিয়া কামাল হলের ভেতরে ছাত্রীরা ওই ছাত্রলীগ নেত্রীর কুশপত্তলিকা পুড়িয়ে বিক্ষোভ করে।

এসময় মোর্শেদা আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘হলের সভাপতি ইফফাত জাহান এশা আপু প্রতিদিন মেয়েদের মারে। ভিডিও কইরেন না। আপনারা আমার দায়িত্ব নিতে পারবেন না। আমরা এতদিন ভয়ে কোনো কথা বলিনি। তিন দিন ধরে প্রোগ্রাম হচ্ছে, আমরা গেছি। আমাদের জিজ্ঞাসা করে আমরা কই গেছি, কেন গেছি।

আমাদের তো আর সবার সামনে মারে নাই। সেকেন্ড ইয়ারের একটা মেয়েকে মারছে। থাপ্পড় মারছে, মাথায় পানি দিতে হইছে। কষ্ট এটাই, ম্যাডামরা আমাদের দায়িত্ব নিতে পারে নাই। আমরা তো অসহায় হয়েই হলে উঠি। আমাদের থাকার জায়গা নেই বলেই হলে উঠি।

মেয়েটা পা পর্যন্ত ধরছে। বলেছে, আপু আমারে কিছু বইলেন না। এগুলা আমাদের চুপচাপ দেখতে হইছে। কোনো ব্যবস্থা নাই। কালকেও মেয়েদের মারছে। তিন চারটা মেয়েকে মারছে।’

মোর্শেদার ওই ভিডিও রাতেই ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। ছাত্রী নির্যাতনের খবর ও ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে হাজারো শিক্ষার্থী কবি সুফিয়া কামাল হলের সামনে জড়ো হন। তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এদিকে জানা গেছে ইফফাত জাহান এশার বাড়ি ঝিনাইদহে। ছাত্রলীগ নেত্রী এশা ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুরের মো: ইসমাইল হোসেন বাদশার মেয়ে। বাদশা জেলা দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)।

এশা ঝিনাইদহ সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি ও ২০১২ সালে ঝিনাইদহ সরকারি নুরুন্নাহার মহিলা কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।

Share.