ক্লান্ত পুলিশদের পানি পান করিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল আন্দোলনকারীরা

0

ক্লান্ত পুলিশদের পানি পান- ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত পুলিশ সদস্যদের পানি পান করিয়ে অহিংস আন্দোলনের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ফুল দিয়েও বরণ করে নেয় শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে প্রধার ফটক এলাকায় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আইনশৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের প্রতি এমন সোহার্দ্যপূর্ণ আচরণ লক্ষ করা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দফায় দফায় বাধা উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বুধবার আন্দোলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা শর্তেও কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে তারা। শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর বিরাগভাজন না হয়ে অহিংস আন্দোলনের অনন্য দৃষ্টান্ত দেখাতে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে প্রীতি সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অহিংস আন্দোলনের দুটি চিত্র দেখা যায় ফুটন্ত লাল গোলাপ দিয়ে কর্তব্যরত কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মেহেদি হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন এবং দিশাকে বরণ করে নেয় ইবি শিক্ষার্থীরা।

সময়ের ব্যবধানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আদেশের অপেক্ষায় সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েন পুলিশ সদস্যরা। যখন তারা ক্লান্ত হয়ে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে বসে পড়েন। পানির জন্য টিউবওয়েল খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে শিক্ষার্থীরা টিউবওয়েল থেকেও পানি এনে দেন।

একই সঙ্গে রৌদ্রের উত্তাপে ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত পুলিশ সদস্যদের পানি পান করানোর দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। এমন চিত্র অন্য পুলিশ সদস্যরা দেখে হতবাক হন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পানি পান করানো ওই পুলিশ সদস্যের পাশের এক পুলিশ জানান, অর্ডারের অপেক্ষায় ছিলাম। স্যারের অর্ডার পেলেই আমরা শিক্ষার্থীদের ওপর অ্যাকশনে যেতাম। এখনো বলা যাচ্ছে না কি হবে? তবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতটাই মানবিক তা ভেবেই নিজেদের অপরাধী মনে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে পুলিশকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া শিক্ষার্থী সাদিকুল ইসলাম এবং পিংকি বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। আমরা বিবেকের জায়গা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেছি।’

এ বিষয়ে ইবি থানার ওসি রতন শেখ বলেন, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু শত্রু নয়। শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর কোনো হামলা করেনি আমরাও কোনো আক্রমণে যাইনি। আর তাদের এই আন্তরিকতা দেখে আমার ব্যক্তিগতভাবে ভালো লেগেছে।

Share.