অধ্যক্ষকে ছাত্রলীগ নেতার মারধরের ভিডিও ভাইরাল, সমালোচনার ঝড়

0

চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ ড. জাহেদ খানকে ছাত্রলীগ নেতার মারধরের ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে স্যোশাল মিডিয়ায়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে এ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আনেননি মারধরের শিকার হওয়া সেই অধ্যক্ষ।

অভিযুক্ত নুরুল আজিম রনি মহানগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় তিনি অধ্যক্ষকে মারতে মারতে একটি কক্ষে নিয়ে আসছেন। সেই কক্ষটি অবশ্য অধ্যক্ষের নিজেরই কক্ষ। গত ৩১ মার্চ এ ঘটনা ঘটেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ধাক্কা ও কিল-ঘুষির শিকার হওয়ার পর অধ্যক্ষ নিজ আসনে বসেন। পরে সেই ছাত্রলীগ নেতা তার অনুমতির তোয়াক্কা না করেই তার সামনে রাখা চেয়ার বসে পড়েন এবং আঙুল উঁচিয়ে তাকে শাসাতে থাকেন। এসময় কক্ষটিতে অনেক লোক ও একাধিক পুলিশ সদস্যও হাজির ছিলেন। কিন্তু তারা কেউ অধ্যক্ষকে লাঞ্ছনা থেকে বাঁচাতে কোনো উদ্যোগ নেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি তার অনুসারীদের নিয়ে গত শনিবার দুপুরে বিজ্ঞান কলেজের ক্যাম্পাসে যান। তিনি ওই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উন্নয়ন ফির নামে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এই টাকা আদায় অবৈধ ও ফেরত দেয়ার দাবি জানান তিনি। দীর্ঘক্ষণ তা নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে নুরুল আজিম রনি অধ্যক্ষ জাহেদ খানকে ঘুষি মারেন। তার অনুসারীরাও তাকে মারধর করেন।

ওই ঘটনার জেরে সোমবার চট্টগ্রামরে চকবাজার থানায় কলেজ ‘শিক্ষার্থীদের পক্ষে’ মামলা করেন ছাত্রলীগ নেতা রনি। তিনি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ‘অতিরিক্ত টাকা আদায়ের’ অভিযোগ এনেছেন।

এদিকে অধ্যক্ষ ড. জাহেদ খানকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটি ‘সাময়িক উত্তেজনার’ বশে ঘটে গেছে বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত নুরুল আজিম রনি। তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বাড়তি ফি ফেরত না দিয়ে চলে যেতে চাইলে অধ্যক্ষকে অফিসে বসিয়ে রেখে টাকা আদায় করা হয়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের চাপ ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় তিনি উত্তেজিত হয়ে অধ্যক্ষকে কিল ঘুষি মেরে বসেন।

আহত অধ্যক্ষ ড. জাহেদ খান বলেন, শনিবার দুপুরের দিকে রনি দলবল নিয়ে আমার কক্ষে এসে আমাকে কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মারেন। তার অনুসারীরাও আমার ওপর হামলা করে।

জানতে চাইলে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হুদা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি ফি নেওয়ার যে দাবি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে করা হয়েছে, সেটা যৌক্তিক।’

ছাত্রলীগ নেতার অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি নুরুল হুদা বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার কথা আমাদের জানা নেই। অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত বা মারধর করার কোনও অভিযোগ কলেজ কর্তৃপক্ষ দায়ের করেনি।

সূত্র:সময়ের কণ্ঠস্বর

Share.